রবীন্দ্রনাথ তার বিভিন্ন গানে পাশ্চাত্য সুর ব্যবহার করেছিলেন। তাছাড়া আমাদের দেশের লোকগীতি ও লালনগীত সুরের প্রতিফলনও তার গানে দেখা যায়। নিন্দুকেরা এজন্য শুধু রবীন্দ্রনাথকেই কাঠগড়ায় দাড় করান। তবে রবীন্দ্রনাথই কিন্তু একমাত্র নন যিনি বিদেশী সুর তার গানে ব্যবহার করেছেন, আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামও তার গানে ইরানি, আরবি ও তুর্কি সুরের ব্যাপক ব্যবহার করেছেন। এক্ষেত্রে প্রথমেই বলা যেতে পারে তার বিখ্যাত নৃত্যসঙ্গীত ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’র কথা।
“শুকনো পাতার নূপুর পায়ে নাচিছে ঘূর্ণি বায়
জল তরঙ্গে ঝিলিমিলি ঢেউ তুলে সে যায়।“ (তুর্কি সুর)
এই গানটির সুর তিনি নিয়েছেন একটি প্রাচীন তুর্কি লোকগীতি থেকে। এই গানটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। আবার একই সুর ব্যবহৃত হয়েছে একটি আরবী গানে। নজরুলের গীতিগ্রন্থে দেখা যায় “শুকনো পাতার নূপুর পায়ে” গানটির শীর্ষে নজরুলের হস্তাক্ষরে লেখা আছে ‘আরবি সুর’। অর্থাৎ তিনি আরবী গানটি থেকে নিয়েছেন। কিন্তু গানটির রেকর্ডে আরবী বা তুর্কি সুর যাই হোক কোনটাই উল্লেখ করেননি। এই গানটির রেকর্ডে লেখা আছে ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’ সুর: কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পী: হরিমতী, এইচএমভি রেকর্ড নং এন-৭১৭৩, প্রকাশকাল ১৯৩৩।
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলরে দুনিয়ায়
আয়রে সাগর-আকাশ-বাতাস দেখবি যদি আয় (তুর্কি সুর)
এই গানটির সুরও তিনি নিয়েছেন একটি তুর্কি গান থেকে। এর রেকর্ডেও তিনি তুর্কি সুরের কথা উল্লেখ না করে নিজের নাম বসিয়ে দিয়েছেন। গানটির রেকর্ডে লেখা আছে ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলরে দুনিয়ায়’, সুর: কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পী: আব্বাসউদ্দিন আহমদ, টুইন রেকর্ড নং এফটি-৩৯৮০, প্রকাশকাল: জুন ১৯৩৫।
তার আরো যেসকল গানের সুর বিদেশী গান থেকে নেয়া সেগুলো হল -
১। চমকে চমকে ধীর ভীরু পায় (আরবি সুর)
২। দূর দ্বীপবাসিনী চিনি তোমারে চিনি (কিউবান দ্বীপের নৃত্যের সুর)
২। মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায় (মিসরের নাচের সুর)
৪। পরি জাফরানী ঘাঘরী চলে সিরাজের পরী (ইরানী সুর)
৫। মম তনুর ময়ূর সিংহাসন (ইরানী সুর)
৬। আনারকলি আনারকলি (ইরানী সুর)
৭। ইরানের বুলবুলি কি এলে (ইরানী সুর)
৮। ইরানের রূপমহলের (ইরানী সুর)
৯। ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি (হিজাজ ভৈরবী রাগ, ইরানের হিজাজ প্রদেশের সুর)
১০। নার্গিস সবাগমে বাহার কি আগমে (ইরানী সুর)
১১। বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে (নৌরচকা)
এছাড়াও ১৯৪২ সালে তার সঙ্গীত পরিচালনায় কলকাতায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চৌরঙ্গী’ সিনেমায় তিনি দু’টি গানে আরবী সুর ব্যবহার করেছেন। গান দু’টি হল -
১। ‘রুম ঝুম ঝুম ঝুম রুম ঝুম ঝুম
খেজুর পাতার নূপুর বাজায়ে কে যায়’
২। জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি
তব হাসি কান্না চোখের সৃষ্টি
তারও চেয়ে মিষ্টি মিষ্টি মিষ্টি
তাহলে দেখা যাচ্ছে নজরুলের অধিকাংশ জনপ্রিয় গানের সুরই হয় ইরানি নয়তো আরবি সুর হতে নেয়া; যেমনিভাবে রবীন্দ্রনাথ তার গানে ব্যবহার করেছেন ইউরোপীয়ান ও লালনের সুর। একজন শিল্পী ভিনদেশের সুরে অনুপ্রাণিত হতেই পারেন। এক্ষেত্রে দোষের কিছু নেই। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল দুজনেই ভিনদেশী সুর তাদের গানে সার্থকভাবেই ব্যবহার করেছেন; সমৃদ্ধ করেছেন আমাদের দেশজ সঙ্গীত। তাছাড়া মাত্র কয়েকটা গানে ভিনদেশী সুর ব্যবহার করার কারণে তো তাদের কৃতিত্ব খাটো হয়ে যায়নি। তাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ও আমাদের জাতীয় কবি নজরুল সবার কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য সন্মানটুকু পাবেন এটাই প্রত্যাশিত।
*** এই লেখার মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ২৩ শে মে ২০০৮ তারিখে দৈনিক যুগান্তরের নজরুল জন্মজয়ন্তী সংখ্যায় প্রকাশিত জনাব আসাদুল হক লেখাটি।
ছেড়া পাতা
বিষয়
- ধর্ম ও বিজ্ঞান (2)
- অদ্ভুতুড়ে (1)
- বিতর্ক (1)
- সঙ্গীত (1)
সর্বশেষ লেখাগুলো

বেশ কিছু দিন আগে দৈনিক যুগান্তরের ইসলামী পাতায় (২৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ শুক্রবার) হাবিবুর রহমান সরকার নামক একজনের একটি লেখা চোখে পড়েছিল। লেখক মহানবীর চাঁদ দ্বিখন্ডিত করার কাহিনী বর্ণনা করতে করতে এক পর্যায়ে দাবি করেছেন ১৯৬৭ সালে প্রথম চন্দ্রে অবতরনকারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদ দিখণ্ডিত হওয়ার ফাটল দেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
মহানবীর ইশারায় দ্বিখণ্ডিত চাঁদ
মক্কায় থাকা অবস্থায় আবু জাহিলসহ অন্য কাফির মুশরিকরা নবী করিম (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, যদি আপনি আল্লাহর রাসূল হয়ে থাকেন তবে নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে চাঁদকে দিখণ্ডিত করে দেখান। রাসূল (সা.) বললেন, যদি এই মু’জিযা দেখাই তবে কি তোমরা ইসলাম গ্রহণ করবে? তারা বলল, হ্যাঁ আমরা ইসলাম গ্রহণ করব। রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে স্বীয় পবিত্র আঙুল দ্বারা চাঁদ দিখণ্ডিত করলেন। অর্থাৎ রাসূলের শাহাদাত আঙুল দ্বারা ইশারা করতেই (পূর্ণিমার রাতে) চাঁদের একখণ্ড আবিকুবাইস পাহাড়ে আর অন্য একটি খণ্ড কাইকাআন পাহাড়ে পতিত হয়। আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী পরিমাণ সময় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় ছিল।
এই দৃশ্য মক্কার কাফির মুশরিকরা স্বচক্ষে দেখেও ঈমান আনার পরিবর্তে বলল, ‘মুহাম্মদ তোমার জাদু দেখি আসমানেও চলে।’ (নাউজুবিল্লাহ) তাদের ধারণা ছিল জাদু যেহেতু জমিনে চলে এবং আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে কোন জাদু চলে না, তাই মহানবী (সা.)-কে অযোগ্য প্রমাণ করার জন্য এবং তাদের হাস্যরসের পাত্র বানাতে আলোচ্য ঘটনার উদ্ভব ঘটায়। কোরআনুল কারিমের সূরাতুল ‘কামার’ এর মধ্যে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
এত বড় বিশাল চাঁদের দিখণ্ডিত হওয়ার অলৌকিক দৃশ্য দেখে তৎকালীন কাফির মুশরিকরা ঈমান গ্রহণ না করলেও আজ দেড় সহস্র বছর পর হলেও গত ১৯৬৭ সালে এক মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং নভোযানে গিয়ে চাঁদ দিখণ্ডিত হওয়ার ফাটল দেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
অনেকের মতো আমারও তার এ দাবি সম্পর্কে সন্দেহ হল। তাই একটু গুগলিং করলাম সমাধানের আশায়। সমাধান যা পেলাম তা বেশ চমকপ্রদ। এখন প্রশ্ন হল নীল আর্মস্ট্রং কি সত্যিই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল? এর উত্তর অবশ্যই ‘না’, এক অন্তঃসারশূণ্য গুজবের উপর ভিত্তি করে মুসলিম ধর্মব্যবসায়ীরা এক অজানা লাভের আশায় এখনো এটি প্রচার করেই চলেছেন।
এই গুজবের দু’টি ভার্সন পাওয়া যায়। প্রথমঃ আর্মস্ট্রং যখন চাঁদের মাটিতে হাটছিলেন তখন তিনি নাকি এক অচেনা ভাষায় অদ্ভুত সুরে কিছু শব্দমালা শুনতে পান। সেই শব্দমালা সেই সময় তার বোধগম্য হয়নি। পরবর্তীতে পৃথিবীতে ফেরার পর তিনি ইজিপ্টে যান এবং সেখানে আযানের ধ্বনি শোনেন। তিনি বলেন, “আমি যখন চাঁদে গিয়েছিলাম তখন এরকমই কিছু শুনতে পেয়েছিলাম”। তখন তার ইজিপ্সিয়ান বন্ধু এটিকে আযানের ধ্বনি নিশ্চিত করলে তিনি তৎক্ষনাৎ ইসলাম গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় কাহিনীটি আরো কৌতুহলদ্দীপক। এখানে বলা হয়েছে আর্মস্টং যখন চাঁদের মাটিতে তথ্যানুসন্ধান করছিলেন তখন তিনি চাঁদের মাটিতে এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত একটি লম্বা দীর্ঘ ফাটল দেখতে পান। এই ফাটলের সাথে তিনি তিনি মুহাম্মদের চাঁদ দ্বিখন্ডিত করার কাহিনীর যোগসূত্র খুঁজে পান। মুহাম্মদের চাঁদ দ্বিখন্ডিত করার কাহিনীর চাক্ষুস প্রমাণ পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে এসে আর দেরি করেননি, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
কিন্তু এই কাহিনী যে অবাস্তব ও অন্তঃসারশূণ্য তার কিছু প্রমাণ এখন দেব। প্রথমতঃ নীচের বার্তাটি ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট হতে ইসলামিক বিশ্বের সকল দূতাবাসগুলোতে প্রেরিত হয়েছিল।
P 04085 0Z MAR 83 ZEX
FM SECSTATE WASHD C
TO ALL DIPLOMATIC AND CONSULAR POSTS PRIORITY
BI
UNCLAS STATE 056309
FOLLOWING REPEAT SENT ACTION ALL EAST ASIAN AND PACIFIC DIPLOMATIC POSTS DID MAR 02.
QUOTE: UNCLAS STATE 056309
E.O. 12356: N/A
TAGS: PREL, PGOV, US, ID
SUBJECT: ALLEGED CONVERSION OF ENIL ARMSTRONG TO ISLAM
REF: JAKARTA 3081 AND 2374 (NOT ..)
1. FORMER ASTRONAUT NEIL ARMSTRONG, NOW IN PRIVATE BUSINESS, HAS BEEN THE SUBJECT OF PRESS REPORTS IN EGYPT, MALAYSIA AND INDONESIA (AND PERHAPS ELSEWHERE) ALLEGING HIS CONVERSION TO ISLAM DURING HIS LANDING ON THE MOON IN 1969. AS A RESULT OF SUCH REPORTS, ARMSTRONG HAS RECEIVED COMMUNICATIONS FROM INDIVIDUALS AND RELIGIOUS ORGANIZATIONS, AND A FEELER FROM AT LEAST ONE GOVERNMENT, ABOUT HIS POSSIBLE PARTICIPATION IN ISLAMIC ACTIVITIES.
2. WHILE STRESSING HIS STRONG DESIRE NOT TO OFFEND ANYONE OR SHOW DISRESPECT FOR ANY RELIGION, ARMSTRONG HAS ADVISED DEPARTMENT THAT REPORTS OF HIS CONVERSION TO ISLAM ARE INACCURATE.
3. IF POST RECEIVE QUERIES ON THIS MATTER, ARMSTRONG REQUESTS THAT THEY POLITELY BUT FIRMLY INFORM QUERYING PARTY THAT HE HAS NOT CONVERTED TO ISLAM AND HAS NO CURRENT PLANS OR DESIRE TO TRAVEL OVERSEAS TO PARTICIPATE IN ISLAMIC RELIGOUS ACTIVITIES.
NEIL A. ARMSTRONG
LEBANON, OHIO 45036
দ্বিতীয়তঃ নীচের চিঠিটি এশিয়ান রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ফিল পার্শাল এর কাছে নীল আর্মস্ট্রং এর পক্ষে এডমিনিস্ট্রেটিভ এইড এর ভিভিয়ান হোয়াইট পাঠিয়েছিলেন।
July 14, 1983
Mr. Phil Parshall
Director, Asian Research Center
International Christian
Fellowship 29524 Bobrich
Livonia, Michigan 48152
Dear Mr. Parshall:
Mr. Armstrong has asked me to reply to your letter and to thank you for the courtesy of your inquiry. The reports of his conversion to Islam and of hearing the voice of Adzan on the moon and elsewhere are all untrue.
Several publications in Malaysia, Indonesia and other countries have published these reports without verification. We apologize for any inconvenience that this incompetent journalism may have caused you.
Subsequently, Mr. Armstrong agreed to participate in a telephone interview, reiterating his reaction to these stories. I am enclosing copies of the United States State Department's communications prior to and after that interview.
Sincerely
Vivian White
Administrative Aide
তৃতীয়তঃ জার্নাল এরাবিয়া, দ্য ইসলামিক ওয়ার্ল্ড রিভিউ, ইস্যু জুন ১৯৮৫/রমজান ১৪০৫, পৃষ্ঠা ৫ এ সম্পাদকের কাছে প্রেরিত এই চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে।
A MUSLIM OVER THE MOON?
"Arabia" is by far the superior newsmagazine regarding what is going on in the Muslim world today. Your reporting is extremely thorough and seeks to be as objective as possible. Your willingness to criticize political policies as well as religious happenings in the Muslim world is refreshing. As an American I would feel your slant on the West is basically fair. It would be most helpful if you would dispel a misconception prevalent in almost all Muslim countries. From Morocco to the Philippines it is commonly believed that Neil Armstrong heard the Azan on the moon, converted to Islam and is now engaged in the full-time propagation of the Muslim faith.
The US State Department has issued a memo saying that the story about Armstrong's conversion was untrue. The memo said "While stressing his strong desire not to offend anyone or show disrespect for any religion, Armstrong has advised department that reports of his conversion to Islam are inaccurate." The memo further says, "if post receives queries on this matter, Armstrong requests that they politely but firmly inform querying party that he has not converted to Islam and has no current plans or desires to travel overseas to participate in Islamic religious activities."
N.B. The memo was sent to all our diplomatic and consular posts.
Dr Phil Parshall
Director, Asian Research Centre Manila, Philippines
সর্বশেষ ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর ৬ তারিখে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত “গ্লোবাল লিডারশিপ ফোরাম” এ নীল আর্মষ্ট্রং অংশগ্রহণ করেন। মালয়েশিয়ার সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজী দৈনিক “স্টার মালয়েশিয়া” তখন তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে যা প্রকাশিত হয় ৭ ই সেপ্টেম্বর তারিখে। সেই সাক্ষাৎকারের একটি বাক্য ছিল নিম্নরূপ :
“Armstrong, 75, also denied he had heard the Muslim call to prayer on the moon and had converted to Islam”.
এরপরও কি বলবেন আর্মস্ট্রং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন?
তাছাড়া আমেরিকার চন্দ্রজয় সম্ভব হয়েছিল কিনা তা নিয়েও বিস্তর ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। আমেরিকার চন্দ্রজয় সম্ভব না হয়েই থাকে, তাহলে আর্মষ্ট্রং এর চাঁদের ভূমিতে ফাটল দেখা বা আযান শোনার প্রশ্নই ওঠে না। এত প্রমাণ দেবার পর আপনার মনে কি প্রশ্ন উঠেনি, যদি নীল আর্মস্টং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করে থাকেন তবে কারা এ গুজব ছড়াল? তাদের উদ্দেশ্য কি? একটু ভাবুন, নিজে থেকেই জবাব পাবেন আশা রাখি।
আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য নীচের ওয়েবসাইটগুলো দেখতে পারেন।
(১) http://ourislamonline.tripod.com/neilstatementdeptt.htm
(২) http://www.wikiislam.com/wiki/Neil_Armstrong
(৩) http://www.answering-islam.org/Hoaxes/neil.html
(৪) http://www.thestar.com.my/news/story.asp?file=/2005/9/7/nation/11971532&sec=nation
*** এই লেখাটি প্রথম প্রকাশ করেছিলাম সামহোয়্যারইনব্লগে। এরপর মুক্তমনাতেও প্রকাশ পেয়েছে। ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশের আগে ভাষার সামান্য কিছু পরিবর্তন করেছি।
বিষয়ঃ ধর্ম ও বিজ্ঞান
কোনদিনও ডুববে না দাবি করেছিল টাইটানিক। কিন্তু ১৯১২ সালে প্রথম বিহারেই ১৫০০ যাত্রী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় বিলাসবহুল টাইটানিক। এরপর শুরু হয় ডুবে যাবার কারন অনুসন্ধান। প্রচারিত হতে থাকে নানা কাহিনী। এ সব কাহিনীগুলোরই একটি এক অভিশপ্ত মমির অভিশাপ। এই মমিটি ইজিপ্টের রাজকুমারী আমেন রা এর। বলা হয় মমির অভিশাপের কারনেই ভাসমান বরফদ্বীপের সাথে ধাক্কা খেয়েছিল টাইটানিক। গল্পটি বহু বছর ধরে প্রচারিত হলেও এর পালে বিশেষ হাওয়া লাগে অস্কার বিজয়ী টাইটানিক ছবিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর।
গল্পটি এরকম - ১৮৯০ সালের শেষার্ধে এক ধনী ইংরেজ লুক্সরের কাছে এক প্রত্নতাত্নিক খননকাজ দেখতে যান। তিনি সেখান থেকেই কেনেন কফিনশুদ্ধ রাজকুমারীর এই মমিটি। এরপর তিনি জাহাজে করে মমিটি দেশে পাঠাবার ব্যবস্থা করেন কিন্তু বন্দরে মমিটি গ্রহণ করার জন্য নিজে উপস্থিত থাকতে পারলেন না। তিনি অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। বাস্তবিকই তাকে আর কোনদিনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গী ছিল তিন জন। মমির অভিশাপ তাদেরকেও রেহাই দেয় নি। একজন কিছুদিন পরেই মারা যান, দুর্ঘটনায় একজনের হাত কাটা পড়ে আর অপরজন ব্যাংক ফেল করায় সর্বসান্ত হন।
কফিনটি ইংল্যান্ডে পৌছলে একজন ব্যবসায়ী তা কিনে নেন। এর ফলে সেই ব্যবসায়ীর পরিবারের তিনজন মোটর দুর্ঘটনায় আহত হন এবং তার বাড়ীতে আগুন লাগে। মমিটিকে অভিশপ্ত মনে করে সেই ব্যক্তি এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দান করে দেন।
মিউজিয়াম এটিকে সাদরে গ্রহণ করলো। কিন্তু মিউজিয়ামের কর্মচারীরা রাত্রিবেলা শুনতে পেল কফিনের ভেতর থেকে তীব্র কান্নাস্বর। প্রদর্শনী কক্ষের জিনিসপত্রগুলো সব এলোমেলোভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেল। মারা গেল এক প্রহরী। এ কথা জানতে পেরে এক ফটোগ্রাফার কফিনের ছবি তুলে আনলেন। ছবি ডেভেলপ করার পর ছবিতে যে বীভৎস রূপ তিনি দেখলেন তাতে আত্নহত্যা করেই তিনি মুক্তির পথ খুঁজলেন।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামও আর এসব সহ্য করতে পারছিল না। কিন্তু মমিটির কুখ্যাতি এতটাই ছড়িয়েছিল যে এ থেকে তারা খুব সহজে মুক্তি পায়নি। অবশেষে একজন আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ এসব কিছুকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে কিনে নিলেন মমিটি আর টাইটানিকে চড়িয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। আর এরপরের ঘটনা তো সবারই জানা।
তবে এই গল্পের আরেকটি ভার্সনে বলা হয় সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ টাইটানিকের এক নাবিককে ঘুষ দিয়ে মমিটি লাইফবোটে তোলেন এবং এটি আমেরিকা পৌছায়। এরপর মমিটি আবার হাতবদল হয়ে আরো কয়েকবার সমুদ্রবিহার করে অবশেষে সাগরতলে আশ্রয় নেয়।
এটি কি সত্যি? নাকি শুধুই এক কল্পনাশ্রয়ী গুজব?
শিপিং রেকর্ডে খোঁজ করে টাইটানিকে কোন মমি তোলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে বলা হয় যে সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ নাকি এটি গোপনে বিদেশে পাচার করছিলেন। আবার দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কোন যাত্রীও লাইফবোটে মমি ওঠানোর কথা উল্লেখ করেননি। তাছাড়া কোন উদ্ধারকারীও মমির কথা তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেননি।
সম্ভবত এই গল্পের সূচনা হয় ডগলাস মুরে ও টি. ডব্লিউ. স্টিড নামক দুই ইংরেজের কাছ থেকে। তারা দাবি করেন যে তাদের এক সহযোগী ইজিপ্ট থেকে একটি মমি কিনে তার বাসার বসার ঘরে এটি সাজিয়ে রেখেছিল। পরদিন সকালে দেখা গেল ঘরের সব ভঙ্গুর জিনিসপত্রগুলো ভেঙ্গে চুড়মাড় হয়েছে। এবার ঘর পাল্টে দেয়া হল। কিন্তু পরের সকালে দেখা গেল একই কান্ড।
দুজনেই ব্রিটিশ মিউজিয়ামে মমির কফিনটি দেখতে গিয়েছিলেন। শুধুই কফিন, আসলে সেখানে কোনদিনই কোন মমি ছিল না। কফিনের ডালার গায়ের ভীতিকর ছবিটি দেখে তারা বুদ্ধি আঁটে। ভাংচুর আর ভয়ংকর ডালার গল্প দুটি জোড়া দিয়ে নতুন গল্পটি বিক্রি করে দিলেন পত্রিকার কাছে। পরে এই কাহিনীতে ঘটে টাইটানিকের অর্ন্তভুক্তি। এই খবর প্রকাশিত হয় ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ আরো অনেক পত্রিকায়।
সম্ভবত এই গল্পে টাইটানিকের অংশটুকু ঢোকানোর প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল ১৮৩৮ সালে মেনকরের কফিন হারিয়ে যাওয়া। প্রাচীন রাজত্বকালের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হিসাবে বিবেচিত হওয়া এই কফিনটি আনা হচ্ছিল ইজিপ্ট থেকে ইংল্যান্ডে। দ্য বিট্রাইস নামের জাহাজটি কার্টাগিনার কাছে কোথাও ডুবে গেলে মমিটিও সাগরতলে নিমজ্জিত হয়।
তবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম এ সকল কাহিনী সবসময়ই অস্বীকার করে আসছে। আর রাজকুমারী আমের রা-এর কফিনটি এখনো ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বহাল তবিয়তেই আছে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শক আসে শুধু এই অভিশপ্ত মমির কফিনটি দেখতে।
বিষয়ঃ অদ্ভুতুড়ে
এ জগতের সবকিছুই উদ্দেশ্যহীন। এই বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির পেছনে কোন উদ্দেশ্য নেই, এই বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড ও বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের সব কিছুই সৃষ্টি হয়েছে সৃষ্টির নিয়মে, কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই। ঈশ্বর এসব কিছুই সৃষ্টি করেননি, এসব সৃষ্টি হয়েছে সৃষ্টির নিয়মে। আর এসব কিছু হঠাৎ একদিনে সৃষ্টি হয়নি, হয়েছে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের মাধ্যমে।
আজ এই পৃথিবীতে আমরা যা কিছু দেখছি বিভিন্ন পদার্থ, গাছপালা, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, মানুষ ইত্যাদি সমস্ত কিছু কতগুলো পরমাণুর সমষ্টি। তবে মানুষের ক্ষেত্রে শুধু পরমাণুর সমষ্টি বললে সম্পূর্ণ বলা হয় না তাই বলতে হবে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল কতগুলো পরমাণুর সমষ্টি। কারণ প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট জীব, মানুষই এসেছে সবার শেষে।
বিজ্ঞান বলে এই পৃথিবী যেমন একদিনে সৃষ্টি হয়নি তেমনি মানুষও একদিনে সৃষ্টি হয়নি। আবার বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডও শূণ্য থেকে সৃষ্টি হয়নি। একটি বিশ্ব ছিল, যার মধ্যে ছিল তেজপূর্ণ প্রচন্ড শক্তি। কেমন তার শক্তি, কি তার বৈশিষ্ট্য তা আজো বিজ্ঞানের অজানা। তবে বিজ্ঞান জানে ঐ তেজপূর্ণ প্রচন্ড শক্তিতে পরিপূর্ণ বিশ্বে আমাদের পরিচিত কোন পদার্থ ছিল না। তারপর হঠাৎই এক সময় ঐ তেজপুঞ্জ বিস্ফোরিত হল। বিস্ফোরণের সময় এক হাজার থেকে দু'হাজার কোটি বছর আগে। গড় ধরে বলা যায়, আনুমানিক দেড় হাজার কোটি বছর আগে। সেই বিস্ফোরনের নাম দেওয়া হয়েছে "বিগ ব্যাং" বা মহা বিস্ফোরণ।
বিস্ফোরণের প্রথম ৩ মিনিটের মধ্যে যা ঘটেছিল, বিশ্বব্রহ্মান্ডের গোটা ইতিহাসে আর কখনো তা ঘটেনি। বিশ্বসৃষ্টির রহস্য ঐ ৩ মিনিট সময়ের মধ্যেই ধরা আছে। তখনই প্রকৃত অর্থে বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। আজকের বিশ্বে আমরা যা কিছু দেখি তার বীজ সৃষ্টি হয়েছিল তখন। তখন নিউক্লিয়ন ইত্যাদি বহু কণিকা গঠিত হয়েছিল এবং কণিকাগুলো পরস্পরের সাথে ক্রিয়া করতে আরম্ভ করেছিল। এই যে পারস্পরিক ক্রিয়া, বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে মিথস্ক্রিয়া। বহুকাল ধরে বিভিন্নভাবে এই মিথস্ক্রিয়া হওয়ার ফলে বিভিন্ন পদার্থের সৃষ্টি। এইভাবেই আস্তে আস্তে উদ্ভিদ, পশু, পাখি, মানুষ প্রভৃতি জীব সৃষ্টি হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর বিশ্ব যেমন আয়তনে বাড়তে লাগল, তেমনই একসময় তার উত্তাপ কমতে শুরু করলো। বিশ্ব সম্প্রসারিত আর শীতল হতেই থাকলো। একটা পর্যায়ে সৃষ্টি হল হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেন তারকা সৃষ্টির ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। এইভাবেই সৃষ্টি হল তারার। সৃষ্টি হল আবার ধ্বংসও হল। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উদ্ভব হল বিভিন্ন ভারী পদার্থের ইংরেজীতে যাকে বলে হেভি এলিমেন্ট।
ঐ যে "বিগ ব্যাং" - এর পর নিউক্লিয়ন ইত্যাদি কিছু কণিকা সৃষ্টি হয়েছিল সে তো শূণ্য থেকে হয়নি। নিশ্চয় কিছু ছিল যা থেকে হয়েছিল। কারণ বিজ্ঞানের গোড়ার কথাই হল - matter cannot be created nor can it be destroyed। শুধু ম্যাটার নয়, এনার্জীর বেলায়ও এই কথা। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ম্যাটার আর এনার্জী বিশ্বসৃষ্টির আগেও ছিল, বিশ্ব যদি কোনদিন ধ্বংস হয়ে যায় তখনো থাকবে। তবে আজ যেভাবে আছে সেইভাবে হয়তো থাকবে না। হয়তো আবার "ব্ল্যাক হোল"- এর মতো কিছু একটা হয়ে ম্যাটারগুলো সব এক জায়গায় জড়ো হয়ে যাবে, যেমন দেড় হাজার কোটি বছর আগে "বিগ ব্যাং"-এর আগে যেমন ছিল। তার মানে ম্যাটার আর এনার্জী আগেও ছিল, পরেও থাকবে-চিরকালই থাকবে। কেবল রূপ বদলাবে হয়তো।
ম্যাটার আর এনার্জীর মূল উপাদান হল প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি মৌলিক কণা আর ফোটন। আগেই বলেছি, ম্যাটার হচ্ছে কিছু এটমের সমষ্টি। এটমের আবার নিজস্ব জগৎ আছে। তার মধ্যে ইলেকট্রন আছে, নিউক্লিয়ন আছে। নিউক্লিয়নের মধ্যেও আবার অতিক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সব কণিকা আছে। ম্যাটার আর এনার্জী ভিন্ন ইউনিটে, ভিন্ন লেভেলে এবং ভিন্ন ফর্মে অর্গানাইজড হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে অর্গানাইজড হয়ে যখন একটা নতুন এটম তৈরি হচ্ছে তখন তার নতুন ধর্ম দেখা যাচ্ছে। এইভাবে কতগুলো এটম মিলে মলিকিউল তৈরি হল। আবার কতগুলো মলিকিউল মিলে ম্যাক্রোমলিকিউল তৈরি হল। শেষে রেপ্লিকেটিং মলিকিউল এল। রেপ্লিকেটিং মলিকিউল মানে সেই ধরনের মলিকিউল, যা থেকে ঠিক একই ধরণের মলিকিউল তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক সময় এল ইউক্যারিয়োটিক সেল। এই সেল বা কোষের মধ্যে এল জেনেটিক কোষ। এই কোষ থেকেই প্রাণের সৃষ্টি হল। প্রথমে এল এককোষী প্রাণী, তারপর বহুকোষী।
প্রথমে সৃষ্টি উদ্ভিদের তারপর প্রাণীর। পৃথিবীতে জীবসৃষ্টির পর দু'টি ধারায় জীবজগৎ বিভক্ত হয়ে গেল-একটি উদ্ভিদজগৎ আর একটি প্রাণীজগৎ। উদ্ভিদজগৎ আর প্রাণীজগৎ মিলে জীবজগৎ। মানুষ এসেছে সবার শেষে। মানুষের আগমণ মাত্র ত্রিশ লক্ষ বছর আগে। মানুষও একেবারে পৃথিবীতে আসেনি। এককোষী প্রাণীর থেকে যে রূপান্তর সৃষ্টি হয়েছিল, তারই শেষ পরিণতি মানুষ। সৃষ্টির এই যে তত্ত্ব, বিজ্ঞানের ভাষায় একেই বলে বিবর্তনবাদ।
প্রকৃতির রাজ্যে যে রূপান্তর জন্ম-লগ্ন থেকেই শুরু হয়েছিল, তা সম্পূর্নই উদ্দেশ্যহীনভাবে এবং আজো তা ক্রিয়াশীল। "বিগ ব্যাং" এর পর কোটি কোটি বছর ধরে পরিবর্তন হতে হতে সৃষ্টি আজ এই অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে। কোষের মধ্যেও উদ্দেশ্যহীনভাবে মিউটেশন হচ্ছে। এই মিউটেশনই মূল কথা। এই মিউটেশনের জন্যই এককোষী প্রাণী থেকে বিবর্তনের পথ ধরে আজ এসেছি আমরা কোটি কোটি কোষের প্রাণী - মানুষ। এই মিউটেশনের জন্যই বিবর্তন সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বর নেই। বিবর্তনের এই ধারায় ঈশ্বরের কোন প্রয়োজন হয়নি।
ঈশ্বর সম্পূর্ণ কাল্পনিক ব্যাপার। ঈশ্বর জীবজগৎ সৃষ্টি করেননি। জীব জন্তু পশু পাখি কীটপতঙ্গ, মানুষ কিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়। এসবই হয়েছে সৃষ্টির নিয়মে, বিবর্তনের হাত ধরে। প্রাণের ইউনিট যে অ্যামিনো এসিড তা এখন ল্যাবরেটরীতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, অর্থ্যাৎ প্রাণের ইপাদান ইতোমধ্যেই ল্যাবরেটরীতে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কে জানে হয়তো একদিন প্রাণও তৈরি করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞান যে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, তাতে ল্যাবরেটরীতে প্রাণ তৈরির সম্ভাবনা অসম্ভব নয়। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, যে জিনিস এখন ল্যাবরেটরীতে হতে চলেছে, সুদূর অতীতে এইভাবেই সে জিনিস প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয়েছিল, এর সঙ্গে ঈশ্বরের কোন সম্পর্ক নেই। ঈশ্বর প্রাণ সৃষ্টি করেননি।
বাইবেলে বলা হয়েছে, "God created man in His own image"। বাইবেলের কথাটা বদলে বলা যায়, "Man created God in his own image"। প্রায় সব ধর্মেই তাই। তাই ঈশ্বরও মানুষের মতো। তিনি জীবের দুঃখে কাতর হন, আনন্দে উল্লসিত, ক্রোধে উন্মাদ। তাই বলা যায় ঈশ্বর সৃষ্টির সেরা গুজব।
বিষয়ঃ ধর্ম ও বিজ্ঞান

